রবিবার ২১ জুন ২০২৬ - ১৩:৫১
পশ্চিমবঙ্গের হাসনাবাদে ধর্মীয় মজলিসে ‘উলিল আমর’ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

৪ঠা মহররম উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে অনুষ্ঠিত এক ধর্মীয় মজলিসে বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আসগর আলী পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘উলিল আমর’-এর প্রকৃত পরিচয় ও শর্তসাপেক্ষ আনুগত্যের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন-যেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) নির্দেশের পরিপন্থী কোনো আদেশ মানা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসনাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, ২১ জুন: গত রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ এলাকার আমরুলগাছা চকপাটলিতে অনুষ্ঠিত এক ধর্মীয় মজলিসে বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আসগর আলী সাহেব পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াতের আলোকে ‘উলিল আমর’-এর পরিচয় ও কর্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

মজলিসের শুরুতে মাওলানা আসগর আলী "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ" (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের আনুগত্য কর) আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।

তিনি তাঁর বক্তৃতায় ‘উলিল আমর’ কারা এবং তাদের কি ভাবে অনুসরণ করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

উলিল আমর কারা?

‘উলিল আমর’ একটি আরবি শব্দগুচ্ছ, যার আভিধানিক অর্থ ‘আদেশদাতা’ বা ‘কর্তৃত্বের অধিকারী’। ‘উলী’ অর্থ অধিকারী এবং ‘আমর’ অর্থ আদেশ, ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব। কুরআনের পরিভাষায় এটি দ্বারা মুসলিম সমাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গ-যেমন শাসক, নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান, ধর্মীয় পণ্ডিত (ওলামা) কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান-কে বোঝানো হয়।

উলিল আমর-এর আনুগত্য: শর্ত ও সীমারেখা

মাওলানা আসগর আলী আয়াতটি ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসলামে আনুগত্যের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিবিন্যাস ও শর্ত রয়েছে:

১. সর্বোচ্চ আনুগত্য আল্লাহর জন্য: মুসলমানের সর্বপ্রথম ও মৌলিক আনুগত্য হলো আল্লাহর প্রতি।

২. রাসূলের (সা.) আনুগত্য: আল্লাহর আনুগত্যের একমাত্র বাস্তব পদ্ধতি হলো রাসূলের (সা.) আনুগত্য করা।

৩. ‘উলিল আমর’-এর আনুগত্য: কর্তৃত্বের অধিকারীদের আনুগত্য করতে হবে, তবে তা শর্তসাপেক্ষ। স্রষ্টার নাফরমানি করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না। অর্থাৎ, ‘উলিল আমর’-এর কোনো নির্দেশ যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) নির্দেশের পরিপন্থী হয়, তবে সেই নির্দেশ মানা যাবে না।

আয়াতটির আরও নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে তা চূড়ান্তভাবে আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিন ভাগে বিভক্ত কালেমা প্রসঙ্গে

বক্তৃতায় মাওলানা আসগর আলী কালেমাকে তিনটি অংশে বিভক্ত করার ওপর জোর দেন:

১. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ - আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর আনুগত্য।

২. ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ - রাসূল (সা.)-এর আনুগত্য।

৩. ‘আলীউন ওয়ালীউল্লাহ’ - আলী (আ.)-এর বেলায়েত ও অনুসরণ।

তিনি এই তিনটি স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং সঠিক পথে চলার আহ্বান জানান।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha